অটিজমের লক্ষণ কি কি? বাস্তব জীবনের দৃশ্যপট দিয়ে অটিজম চেনার উপায়

​প্রতিটি শিশুই তার নিজস্ব গতিতে বেড়ে ওঠে। কেউ একটু দ্রুত হাঁটতে শেখে, তো কেউ একটু দেরিতে কথা বলে। এগুলো স্বাভাবিক বিকাশের অংশ। কিন্তু একজন অভিভাবক হিসেবে আপনি হয়তো খেয়াল করছেন, আপনার সন্তানের কিছু আচরণ সাধারণ বয়ঃসন্ধি বা বেড়ে ওঠার ধাপের সাথে ঠিক মিলছে না। সে হয়তো সমবয়সী অন্যান্য বাচ্চাদের মতো চারপাশের পরিবেশের সাথে যুক্ত হতে পারছে না। তার নিজস্ব একটি জগৎ তৈরি হয়েছে, যেখানে সে একাই থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

সমস্যাটি হলো, শারীরিক কোনো অসুস্থতা না থাকায় বাইরের থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই ভেতরে কী চলছে। অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (ASD) মূলত মস্তিষ্কের গঠন ও স্নায়ুবিক ভিন্নতার একটি রূপ। এর লক্ষণগুলো শিশুর দৈনন্দিন কাজের মাধ্যমেই প্রকাশ পায়। নিউ লাইফ হোমিও (New Life Homeo)-এর আজকের এই বিশেষ আর্টিকেলে আমরা মেডিকেল বইয়ের কঠিন ভাষার বদলে, প্রাত্যহিক জীবনের কিছু সাধারণ দৃশ্যপটের মাধ্যমে অটিজমের মূল লক্ষণগুলো চেনার চেষ্টা করব।

​দৃশ্যপট ১: যখন তাকে ডাকা হয় বা কথা বলা হয়

​সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে অটিস্টিক শিশুদের প্রথম ভিন্নতাটি চোখে পড়ে তাদের চোখের ভাষায় এবং ডাকলে সাড়া দেওয়ার ধরনে।

  • নামের প্রতি উদাসীনতা: সাধারণ বাচ্চারা নিজের নাম শুনলে সাথে সাথে ঘুরে তাকায়। কিন্তু অটিজমের লক্ষণ থাকা শিশুকে আপনি হয়তো বারবার নাম ধরে ডাকছেন, অথচ সে কোনো পাত্তাই দিচ্ছে না। প্রথম দেখায় আপনার মনে হতে পারে শিশুটির হয়তো কানে শোনার সমস্যা আছে। মজার ব্যাপার হলো, পাশের ঘরে চকলেটের প্যাকেট খোলার সামান্য শব্দ হলেও সে ঠিকই ছুটে আসবে। অর্থাৎ, সে শুনতে পায়, কিন্তু মানুষের গলার স্বর বা ডাকে সে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে, তা তার মস্তিষ্ক প্রসেস করতে পারে না।
  • চোখে চোখ না রাখা (Lack of Eye Contact): আপনি যখন তার সাথে কথা বলবেন বা তাকে আদর করবেন, সে আপনার চোখের দিকে তাকাবে না। সে হয়তো আপনার কাঁধের দিকে, পেছনের দেয়ালের দিকে বা অন্য কোনো দিকে দৃষ্টি সরিয়ে নেবে।
  • হাসির জবাবে না হাসা: সুস্থ শিশুরা পরিচিত মুখ দেখলে বা কেউ হাসলে পাল্টা হাসে (Social Smile)। স্পেকট্রামে থাকা শিশুরা সাধারণত এই সামাজিক হাসিটি দিতে পারে না। অন্যের মুখের এক্সপ্রেশন তারা পড়তে পারে না।

​দৃশ্যপট ২: খেলনা এবং খেলার ধরন

​বাচ্চারা খেলবে, এটাই নিয়ম। কিন্তু অটিজমের ক্ষেত্রে খেলার ধরনটা সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়। তাদের কাছে খেলনা মানে বিনোদনের চেয়ে বরং একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন বা নিয়ম।

  • খেলনার ভিন্ন ব্যবহার: আপনি তাকে একটি দামি রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি কিনে দিলেন। সে গাড়িটি চালিয়ে দেখার বদলে হয়তো উল্টে রেখে দিল এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুধু গাড়ির চাকাটি আঙুল দিয়ে ঘোরাতে লাগল।
  • সারি করে সাজানো: ব্লক বা যেকোনো খেলনা পেলে সে তা দিয়ে কোনো কিছু বানানোর বদলে নিখুঁতভাবে এক লাইনে সাজিয়ে রাখতে পছন্দ করে। এই সারিতে আপনি যদি একটু হাত দেন বা কোনো একটা খেলনা সরিয়ে নেন, তবে সে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
  • কল্পনাপ্রসূত খেলার অভাব (Lack of Pretend Play): সাধারণ বাচ্চারা ‘পুতুল বিয়ে’ দেয় বা রান্নাবাটি খেলে, যেটাকে বলে প্রিটেন্ড প্লে। অটিস্টিক শিশুদের মধ্যে এই কল্পনা করে খেলার প্রবণতাটি সাধারণত থাকে না।

​দৃশ্যপট ৩: কথা বলা এবং যোগাযোগের চেষ্টা

​স্পিচ বা কথা বলার ক্ষেত্রে এই শিশুদের একটি বড় ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই মনে করেন কথা না বলাই অটিজম, বিষয়টি আসলে এত সরল নয়।

  • ইশারার অভাব: সাধারণ শিশুরা কথা বলতে না পারলেও ইশারা দিয়ে বোঝায়। আকাশ দিয়ে প্লেন গেলে আঙুল দিয়ে দেখায় (Pointing)। অটিস্টিক শিশু আঙুল দিয়ে কিছু নির্দেশ করে না। তার যদি টেবিলের ওপর থেকে পানির গ্লাসটা লাগে, সে হয়তো আপনার হাতটা ধরে টেনে নিয়ে গিয়ে গ্লাসের ওপর রাখবে। অর্থাৎ, সে আপনাকে একজন মানুষ হিসেবে নয়, একটি ‘যন্ত্র’ বা মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে।
  • কথার প্রতিধ্বনি (Echolalia): অনেক অটিস্টিক শিশু কথা বলতে পারে। কিন্তু তারা নিজেদের মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য কথা বলে না। আপনি হয়তো জিজ্ঞেস করলেন, “বাবা, পানি খাবে?” সে উত্তর দেওয়ার বদলে আপনার কথাটাই হুবহু কপি করে বলবে, “বাবা, পানি খাবে?”। অনেক সময় টিভিতে শোনা কোনো কার্টুনের ডায়লগ তারা সারাদিন কোনো কারণ ছাড়াই আউড়ে যায়।

​দৃশ্যপট ৪: শারীরিক আচরণ এবং চারপাশের পরিবেশ

​মস্তিষ্কের সংবেদনশীলতার কারণে এরা চারপাশের পরিবেশের প্রতি একটু ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়।

  • পুনরাবৃত্তিমূলক নড়াচড়া (Stimming): হঠাৎ করেই হয়তো সে হাত ঝাপটাতে শুরু করল (Flapping), অথবা নিজের চারপাশে বনবন করে ঘুরতে লাগল। অনেক সময় পায়ের পাতার ওপর ভর দিয়ে হাঁটার প্রবণতাও দেখা যায়। মূলত নিজেদের স্নায়ুকে শান্ত করতেই তারা এই কাজগুলো করে।
  • রুটিনের প্রতি চরম আসক্তি: এরা প্রতিদিনের রুটিনে কোনো পরিবর্তন মানতে পারে না। প্রতিদিন একই রাস্তা দিয়ে হাঁটা, একই প্লেটে খাওয়া বা একই রঙের জামা পরার জেদ থাকে। নিয়মের সামান্য ব্যত্যয় ঘটলেই তাদের মধ্যে মারাত্মক ‘মেল্টডাউন’ বা ক্ষোভ দেখা দেয়।
  • শব্দ ও আলোতে তীব্র প্রতিক্রিয়া: ব্লেন্ডার মেশিনের শব্দ, প্রেশার কুকারের বাঁশি বা ভিড়ের কোলাহল এরা সহ্য করতে পারে না। এসব শব্দে এরা কানে আঙুল দিয়ে কুঁকড়ে যায়।

​সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত: ডা. আবু মুছা খানের হোমিও সমাধান

​উপরের লক্ষণগুলো যদি আপনার সন্তানের সাথে মিলে যায়, তবে বিচলিত হয়ে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। যত দ্রুত আপনি সমস্যার গভীরে পৌঁছাতে পারবেন, শিশুর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা ততটাই উজ্জ্বল হবে।

​প্রচলিত অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসায় সাধারণত সাইকিয়াট্রিক ওষুধ দিয়ে শিশুর স্নায়ুকে নিস্তেজ করে এই অস্থিরতাগুলো কমানোর চেষ্টা করা হয়। এর দীর্ঘমেয়াদী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এখানেই বিজ্ঞানসম্মত ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন সমাধান নিয়ে পাশে আছে নিউ লাইফ হোমিও

​আমাদের প্রধান চিকিৎসক এবং দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে এই খাতে নিরলস কাজ করে যাওয়া ব্যক্তিত্ব, ডা. আবু মুছা খান (ডিএইচএমএস)। মাদার তেরেসা ও মহাত্মা গান্ধী স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত এই চিকিৎসক বিশ্বাস করেন, প্রতিটি শিশুই অনন্য এবং তাদের সমস্যার মূল কারণটিও আলাদা।

​ডা. আবু মুছা খান শিশুর গর্ভাবস্থার ইতিহাস, বংশগত প্রবণতা এবং বর্তমান শারীরিক ও মানসিক লক্ষণগুলো গভীরভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করেন। এরপর সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে কনস্টিটিউশনাল হোমিওপ্যাথিক ওষুধ নির্বাচন করা হয়। এই ওষুধগুলো কোনো ধরনের সাইড-ইফেক্ট ছাড়াই শিশুর মস্তিষ্কের অতি-সংবেদনশীলতা (Sensory issues) কমায় এবং স্নায়ুকে ভেতর থেকে শান্ত করে। ফলে শিশু ধীরে ধীরে চারপাশের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে শুরু করে এবং তার শেখার ও যোগাযোগের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

​আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আর কোনো দ্বিধা নয়। সঠিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় আপনার শিশুটিও সমাজের মূল স্রোতে যুক্ত হতে পারে। যেকোনো জিজ্ঞাসায় আমাদের সাথে আজই কথা বলুন।

​📞 পরামর্শের জন্য সরাসরি কল করুন: 01704755879

🌐 ওয়েবসাইট: newlifehomeo.com

🏥 ঠিকানা: নিউ লাইফ হোমিও (ডা. আবু মুছা খান), ঢাকা।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *