অটিস্টিক শিশুর আচরণ কেমন হয়? স্পেকট্রামের বাচ্চাদের চেনার উপায়

অটিস্টিক শিশুর আচরণ কেমন হয় স্পেকট্রামের বাচ্চাদের চেনার উপায়

খেলার মাঠে অনেক বাচ্চার ভিড়ে একটি শিশু হয়তো স্লাইডে চড়ছে না বা দৌড়াদৌড়ি করছে না। সে এক কোণে দাঁড়িয়ে শুধু নিজের আঙুলগুলো চোখের খুব কাছে এনে দ্রুত নাড়াচ্ছে। কেউ একজন পাশ দিয়ে গেলে সে ফিরেও তাকাচ্ছে না।

এই দৃশ্যগুলো বাবা-মায়েদের মনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দেয়। শারীরিক কোনো অসুস্থতা বা বাহ্যিক ত্রুটি না থাকলেও, স্পেকট্রামে থাকা বা অটিস্টিক শিশুদের আচরণ অন্যান্য সাধারণ শিশুদের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা হয়। তাদের মস্তিষ্ক চারপাশের পৃথিবীকে ভিন্নভাবে দেখে এবং ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়।

নিউ লাইফ হোমিও (New Life Homeo)-এর আজকের এই বিশেষ আয়োজনে আমরা কোনো ডাক্তারি পরিভাষা ব্যবহার না করে, দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ আচরণের মাধ্যমে অটিস্টিক শিশুদের জগতটিকে বোঝার চেষ্টা করব।

আচরণগত বৈশিষ্ট্য: স্পেকট্রামের শিশুরা যা করে

প্রতিটি অটিস্টিক শিশুই আলাদা। একজনের আচরণের সাথে অন্যজনের পুরোপুরি মিল নাও থাকতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিচের আচরণগুলো খুব স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে:

১. মানুষের চেয়ে বস্তুর প্রতি বেশি আকর্ষণ

সাধারণত শিশুরা মানুষের মুখ দেখতে পছন্দ করে। কিন্তু অটিস্টিক শিশুরা মানুষের চেয়ে নির্জীব বস্তুর প্রতি বেশি আগ্রহী হয়। আপনি তাকে একটি রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি দিলে সে গাড়িটি চালানোর বদলে হয়তো তা উল্টে রেখে কেবল চাকাটি ঘোরাতে থাকবে। কোনো খেলনা পেলে সে তা দিয়ে না খেলে, নিখুঁতভাবে এক লাইনে বা সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

২. চোখের যোগাযোগ ও ডাকলে সাড়া না দেওয়া

আপনি যখন তার সাথে কথা বলবেন, সে সাধারণত আপনার চোখের দিকে তাকাবে না। দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেবে। অনেক সময় নাম ধরে বারবার ডাকলেও সে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না। মনে হতে পারে সে কানে শুনতে পাচ্ছে না। অথচ, পাশের ঘরে তার পছন্দের কোনো কার্টুনের সামান্য শব্দ হলেও সে ঠিকই ছুটে আসবে।

৩. রুটিনের প্রতি অদ্ভুত আসক্তি

এরা রুটিনের দাস। এদের প্রতিদিনের কাজের নিয়মে সামান্য পরিবর্তন এলেই এরা প্রচণ্ড রেগে যায় বা অস্থির হয়ে পড়ে। উদাহরণস্বরূপ—প্রতিদিন একই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যাওয়া, নির্দিষ্ট একটি রঙের প্লেটে খাওয়া, বা ঘুমানোর সময় নির্দিষ্ট একটি খেলনা পাশে রাখা। এই নিয়মের সামান্য ব্যত্যয় ঘটলেই তাদের মধ্যে তীব্র জেদ বা ‘মেল্টডাউন’ শুরু হয়।

৪. পুনরাবৃত্তিমূলক নড়াচড়া (স্টিমিং)

অটিস্টিক শিশুদের মধ্যে কোনো কারণ ছাড়াই একই কাজ বারবার করার প্রবণতা দেখা যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘স্টিমিং’ বলা হয়। যেমন:

  • বারবার হাত ঝাপটানো (Flapping)।
  • নিজের চারপাশে বনবন করে ঘোরা।
  • সামনে-পেছনে দোল খাওয়া (Rocking)।
  • পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে হাঁটা (Toe-walking)। মস্তিষ্কের অতিরিক্ত চাপ কমানো বা স্নায়ুকে শান্ত রাখতেই তারা মূলত এই কাজগুলো করে থাকে।

৫. বিপদ বুঝতে না পারা

সাধারণ বাচ্চাদের মধ্যে আগুন, উঁচু জায়গা বা দ্রুতগামী গাড়ির প্রতি স্বাভাবিক একটি ভয় কাজ করে। কিন্তু অনেক অটিস্টিক শিশুর মস্তিষ্ক এই বিপদের ঝুঁকিগুলো প্রসেস করতে পারে না। ফলে তারা হুট করে চলন্ত গাড়ির সামনে দৌড় দিতে পারে বা উঁচু জায়গা থেকে লাফিয়ে পড়তে পারে, যা বাবা-মায়েদের জন্য চরম আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

৬. অদ্ভুতভাবে কথা বলা বা প্রতিধ্বনি করা

অনেকে একেবারেই কথা বলে না। আর যারা কথা বলতে পারে, তাদের কথার ধরনটি একটু ভিন্ন হয়। অনেকেই অন্যের কথার হুবহু পুনরাবৃত্তি করে (ইকোলালিয়া)। আপনি যদি জিজ্ঞেস করেন, “তোমার নাম কী?”, সে উত্তর দেওয়ার বদলে আপনার কথাটাই রিপিট করে বলবে, “তোমার নাম কী?”। আবার অনেকের গলার স্বর রোবটের মতো যান্ত্রিক হয়।

৭. তীব্র সংবেদনশীলতা বা সেন্সরি ইস্যু

চারপাশের পরিবেশের প্রতি এরা অনেক বেশি সংবেদনশীল হয়। ব্লেন্ডার, প্রেশার কুকার বা ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের শব্দে এরা কানে হাত দিয়ে কুঁকড়ে যায়। অনেকেই চুল কাটাতে বা নখ কাটতে দেয় না। আবার নতুন জামার ট্যাগ বা নির্দিষ্ট কাপড়ের স্পর্শ এদের শরীরে তীব্র অস্বস্তি তৈরি করে।

আচরণগত সমস্যার বিজ্ঞানসম্মত সমাধান

অটিস্টিক শিশুর এই আচরণগুলো তাদের কোনো দোষ নয় বা ইচ্ছা করে করা কোনো দুষ্টুমি নয়। তাদের স্নায়ুতন্ত্রের অতি-সংবেদনশীলতার কারণেই তারা এমনটি করে থাকে। প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় অনেক সময় এই আচরণগুলোকে দমন করার জন্য সাইকিয়াট্রিক ওষুধ দেওয়া হয়, যা শিশুকে ঘুম পাড়িয়ে রাখে বা নিস্তেজ করে দেয়।

কিন্তু নিউ লাইফ হোমিও সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি পথে হাঁটে। আমাদের প্রধান চিকিৎসক, মাদার তেরেসা ও মহাত্মা গান্ধী স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত ডা. আবু মুছা খান (ডিএইচএমএস), গত ৫০ বছর ধরে এই শিশুদের আচরণগত পরিবর্তনের পেছনে নিরলস কাজ করছেন।

তিনি শিশুর বাহ্যিক আচরণকে জোর করে বন্ধ করার বদলে, এর পেছনের কারণ নিয়ে কাজ করেন। শিশুর বংশগত ইতিহাস এবং শারীরিক গঠনের ওপর ভিত্তি করে তিনি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট হোমিওপ্যাথিক ওষুধ নির্বাচন করেন। এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ওষুধগুলো শিশুর মস্তিষ্কের স্নায়ুবিক উত্তেজনাকে প্রাকৃতিকভাবে শান্ত করে।

মস্তিষ্ক শান্ত হলে শিশুর জেদ, হাত ঝাপটানো বা অতি-সংবেদনশীলতা আপনাআপনি কমে আসে। তখন সে চারপাশের পরিবেশে মন দিতে পারে এবং বিহেভিয়ারাল থেরাপি বা স্পিচ থেরাপি খুব দ্রুত গ্রহণ করতে সক্ষম হয়।

সন্তানের আচরণ নিয়ে আর হতাশায় ভুগবেন না। অভিজ্ঞ এবং সঠিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে আপনার শিশুটিও সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসতে পারে। আজই আমাদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

📞 সরাসরি কথা বলতে কল করুন: 01704755879 🌐 আমাদের ওয়েবসাইট: newlifehomeo.com.bd 🏥 ঠিকানা: নিউ লাইফ হোমিও (ডা. আবু মুছা খান), ঢাকা।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *