অটিজম রোগ নির্ণয় প্রক্রিয়া: কীভাবে বুঝবেন শিশুর অটিজম আছে?
যখন আপনার দুই বা তিন বছরের সন্তানটি অন্য বাচ্চাদের মতো খেলছে না, ডাকলে ফিরে তাকাচ্ছে না বা কথা বলায় পিছিয়ে পড়ছে, তখন মনের ভেতর একটা চাপা ভয় কাজ করাটাই স্বাভাবিক। চারপাশে পরিচিতজনরা নানা রকম পরামর্শ দিতে শুরু করেন। কেউ বলেন, “বড় হলে এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে”, আবার কেউ হয়তো দেখামাত্রই ‘অটিজম’ বলে চূড়ান্ত রায় দিয়ে বসেন।
এই চরম বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে একজন বাবা বা মায়ের প্রকৃত করণীয় কী? কীভাবে নিশ্চিত হবেন আপনার সন্তানের আসলেও স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার আছে কি না?
নিউ লাইফ হোমিও (New Life Homeo)-এর আজকের এই নির্দেশিকায় আমরা কোনো অনুমান বা ধারণার ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং চিকিৎসা বিজ্ঞানের ধাপে ধাপে অনুসরণ করা ডায়াগনোসিস বা রোগ নির্ণয়ের সঠিক প্রক্রিয়াটি নিয়ে আলোচনা করব।
একটি প্রচলিত ভুল ধারণা: অটিজমের কি কোনো টেস্ট আছে?
শুরুতেই একটি বিষয় খুব স্পষ্টভাবে জানা দরকার। জ্বর মাপার জন্য যেমন থার্মোমিটার আছে বা হাড্ডি ভাঙা দেখার জন্য এক্স-রে (X-ray) আছে, অটিজম মাপার জন্য সেরকম কোনো যন্ত্র পৃথিবীতে নেই।
শিশুর রক্ত পরীক্ষা (Blood test), সিটি স্ক্যান (CT Scan), বা ব্রেইন এমআরআই (MRI) করে কখনোই অটিজম ধরা যায় না। অটিজম নির্ণয়ের পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে ‘আচরণগত পর্যবেক্ষণ’ (Behavioral Observation) এবং শিশুটির বেড়ে ওঠার ইতিহাসের ওপর।
প্রথম ধাপ: কার কাছে যাবেন?
সন্দেহ হওয়ামাত্রই পাড়ার ফার্মেসি বা সাধারণ এমবিবিএস (MBBS) চিকিৎসকের কাছে গেলে আপনি সঠিক উত্তর নাও পেতে পারেন। অটিজম নির্ণয়ের জন্য আপনাকে অবশ্যই নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞদের শরণাপন্ন হতে হবে। সাধারণত একটি ‘মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি টিম’ এই কাজটি করে থাকে, যেখানে থাকেন:
- চাইল্ড নিউরোলজিস্ট বা শিশু স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ
- ডেভেলপমেন্টাল পেডিয়াট্রিশিয়ান (শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞ)
- চাইল্ড সাইকোলজিস্ট (শিশু মনোবিজ্ঞানী)
দ্বিতীয় ধাপ: যেভাবে পরীক্ষা করা হয় (Assessment Tools)
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মূলত কয়েকটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্কেল বা প্রশ্নমালার মাধ্যমে শিশুটিকে পরীক্ষা করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিগুলো হলো:
১. M-CHAT-R (প্রাথমিক স্ক্রিনিং)
এটি মূলত বাবা-মায়েদের জন্য একটি প্রশ্নমালা। ১৬ থেকে ৩০ মাস বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা হয়। এখানে খুব সাধারণ কিছু প্রশ্ন থাকে, যেমন—”আপনার সন্তান কি আঙুল দিয়ে কিছু দেখায়?”, “সে কি অন্য বাচ্চাদের সাথে খেলতে চায়?”। এই উত্তরের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসক বুঝতে পারেন শিশুটি স্পেকট্রামের ঝুঁকিতে আছে কি না।
২. ADOS-2 (গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড টেস্ট)
একে বলা হয় অটিজম নির্ণয়ের সবচেয়ে নির্ভুল পদ্ধতি (Autism Diagnostic Observation Schedule)। এটি কোনো প্রশ্নমালা নয়, বরং এটি একটি ‘প্লে-বেসড’ বা খেলার মাধ্যমে করা পরীক্ষা। চিকিৎসক শিশুটিকে একটি রুমে নিয়ে কিছু নির্দিষ্ট খেলনা দেন এবং তার সাথে খেলার চেষ্টা করেন। এই সময় চিকিৎসক খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন—শিশুটি কীভাবে খেলনা ধরছে, সে চিকিৎসকের চোখের দিকে তাকাচ্ছে কি না, সে নিজের নাম শুনলে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের এই সেশনে শিশুটির সামাজিক এবং যোগাযোগ দক্ষতার একটি পরিষ্কার চিত্র উঠে আসে।
৩. ADI-R (পিতামাতার ইন্টারভিউ)
শিশুর বর্তমান আচরণের পাশাপাশি তার অতীত ইতিহাস জানাও জরুরি। গর্ভাবস্থায় মায়ের কোনো জটিলতা ছিল কি না, জন্মের পর শিশু কখন প্রথম হেসেছিল, কখন হামাগুড়ি দিয়েছিল—এই পুরো বিষদ ইতিহাস বাবা-মায়ের কাছ থেকে নেওয়া হয় (Autism Diagnostic Interview-Revised)।
উপরের এই তিনটি ধাপের সম্মিলিত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই মূলত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চূড়ান্ত রায় দেন যে, শিশুটি অটিজম স্পেকট্রামে আছে কি না এবং থাকলে সে কোন লেভেলে (Level 1, 2, or 3) অবস্থান করছে।
ডায়াগনোসিস রিপোর্ট পাওয়ার পর করণীয় এবং আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি
হাতে অটিজম পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া মাত্রই আকাশ ভেঙে পড়ার কিছু নেই। ডায়াগনোসিস মানে জীবনের শেষ নয়, বরং এটি সঠিক সমাধানের প্রথম ধাপ।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, এরপর স্পিচ থেরাপি বা অকুপেশনাল থেরাপির মতো ম্যানেজমেন্টগুলো শুরু করতে হয়। তবে, এই ম্যানেজমেন্ট বা থেরাপিগুলো শতভাগ কার্যকর করার জন্য শিশুর মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুকে ভেতর থেকে প্রস্তুত করা অত্যন্ত জরুরি।
ঠিক এই জায়গাটিতেই নিউ লাইফ হোমিও গত ৫০ বছর ধরে আস্থার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের প্রধান চিকিৎসক, মাদার তেরেসা ও মহাত্মা গান্ধী স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত ডা. আবু মুছা খান (ডিএইচএমএস), ডায়াগনোসিস রিপোর্টটিকে একটি গাইডলাইন হিসেবে ব্যবহার করেন।
রিপোর্ট দেখার পর তিনি শিশুর নিজস্ব গঠন (Constitution), বংশগত ইতিহাস এবং বর্তমান হাইপার-সেন্সিটিভিটি (অতি-সংবেদনশীলতা) খুব সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করেন। এরপর কোনো প্রকার ক্ষতিকর সাইকিয়াট্রিক বা ঘুমের ওষুধ ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক হোমিওপ্যাথিক ওষুধ নির্বাচন করা হয়। এই ওষুধগুলো শিশুর মস্তিষ্কের অস্থিরতা কমায় এবং স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে। ফলে শিশু খুব সহজেই থেরাপিগুলো গ্রহণ করতে পারে এবং তার বিকাশের গতি অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়।
সঠিক ডায়াগনোসিসের পর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করবেন না। আপনার শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিক ভবিষ্যতের জন্য আজই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের গাইডলাইনে চিকিৎসা শুরু করুন।
📞 যেকোনো পরামর্শের জন্য কল করুন: 01704755879 🌐 আমাদের ওয়েবসাইট: newlifehomeo.com.bd 🏥 ঠিকানা: নিউ লাইফ হোমিও (ডা. আবু মুছা খান), ঢাকা।